ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, পা ভাঙল কানাডার মিডফিল্ডারের! নাটকীয় ম্যাচে কাতারের হার, দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো, জয় সুইৎজ়ারল্যান্ডের

বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে জয় পেল সুইৎজ়ারল্যান্ড এবং কানাডা। দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল মেক্সিকো। ড্র হল দক্ষিণ আফ্রিকা-চেকিয়া ম্যাচ।

কানাডা – ৬

কাতার – ০

গত বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে ৬-০ ব্যবধানে হারাল এ বারের অন্যতম আয়োজক কানাডা। এই ম্যাচে ঘটেছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ৫২ মিনিটে কানাডার ইসমায়েল কোনকে পিছন থেকে কড়া ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। কাতরাতে থাকা কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। মাঠেই কিছুক্ষণ তাঁর প্রাথমিক শুশ্রূষার পর স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিডফিল্ডারের পরিস্থিতি দেখে কেঁদে ফেলেন কানাডার কোচ জেসে মার্চ।

প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মাদিবো। পরে ‘ভার’এর হস্তক্ষেপে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এই ঘটনার জন্য মাদিবোকেও অনুশোচনায় ভুগতে দেখা যায় মাঠে। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। এর পর কাতারকে খেলতে হয় ন’জনে। কারণ আগেই ৩৩ মিনিটে বিশ্রি ফাউল করায় লাল দেখেন কাতারের হোমাম আহমেদ।

১০ জনের কাতারের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কানাডা। প্রতিপক্ষ ন’জন হয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় কানাডা। আরও তিন গোল দেয় তারা। প্রথমার্ধে কানাডার তিন গোলের দু’টি জোনাথন ডেভিডের, একটি কাইল লারিনের। ম্যাচের শুরু থেকেই কাতারের রক্ষণকে চাপে রেখেছিল কানাডা। ১৬ মিনিটে প্রথম গোল করেন লারিন। ২৯ মিনিটে ও প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় গোল করেন ডেভিড। প্রথমার্ধেই কানাডার জয় একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের এক দম শেষ মুহূর্তে দলের হয়ে ষষ্ঠ গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ডেভিড। এর মাঝে ৬৪ মিনিটে কানাডার হয়ে চতুর্থ গোল করেন নাথান সালিবা। তিনি মাঠে নেমেছিলেন কোনের পরিবর্তে। গোল করার পর মারাত্মক চোট পাওয়া সতীর্থের জার্সি তুলে ধরেন সালিবা। কানাডার পঞ্চম গোলটি ৭৫ মিনিটে। কাতারের মহম্মদ মানাই আত্মঘাতী গোল করে দলকে আরও বিপদে ফেলে দেন।

লড়াই করেও হার দক্ষিণ কোরিয়ার

মেক্সিকো – ১

দক্ষিণ কোরিয়া – ০

মেক্সিকোকে গোটা ম্যাচে চাপে রেখেও পয়েন্ট পেল না দক্ষিণ কোরিয়া। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিমের একটি ভুলের মাসুল দিতে হল এশিয়ার অন্যতম সেরা দলকে। বক্সে ভেসে আসা বল লাফিয়ে গ্রিপ করতে ভুল করেননি তিনি। কিন্তু মাটিতে পড়ার সময় বল বেরিয়ে যায় কিমের হাত থেকে। সামনেই থাকা মেক্সিকোর লুইস রোমো গোল করতে ভুল করেননি। পর পর দু’ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসাবে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল মেক্সিকো।

দক্ষিণ কোরিয়াকে আটকাতে পাঁচ জন ডিফেন্ডার এবং এক জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ব্যবহার করে শুরু থেকেই বক্সের সামনে দেওয়াল তুলে দিয়েছিলেন মেক্সিকোর কোচ। অধিকাংশ সময় বলের দখল নিয়ন্ত্রণে রেখেও অ্যাটাকিং থার্ডে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন কোরীয় ফুটবলারেরা। কখনও কখনও মেক্সিরকোর আট জন মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। কোরীয়দের বক্সের মধ্যে ঢুকতেই দিচ্ছিলেন না। একটা সময় কোরিয়ার ফুটবলারেরা নিজেদের অর্ধে বল দেওয়া নেওয়া করে মেক্সিকোর ফুটবলারদের উপরে তুলে এনে ডিফেন্স সংগঠন ভাঙার চেষ্টা করেন। তা-ও লাভ হয়নি। বরং প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে মাঝে মাঝে কোরিয়ার বক্সে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছিল মেক্সিকো।

৮৭ মিনিটে দিনের সহজতম সুযোগটি কোরিয়ার ফুটবলারেরা নষ্ট না করলে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত তারা। কৃতিত্ব দিতে হবে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল র‌্যাঙ্গেলকে। কোরিয়ার ইয়োম ছয় গজের ভাল জায়গায় বক্সে বল দেন। চো ড্রপ হেড করেন। বল আটকালেও ধরতে পারেননি র‌্যাঙ্গেল। মাটিতে পড়ে যান তিনি। ফিরতি বল উঁচু করে প্রায় অরক্ষিত গোলে ঠেলে দেন কোরিয়ার আর এক ফুটবলার। মাটিতে বসেই শরীর ছুড়ে দিয়ে বল আটকে দেন র‌্যাঙ্গেল। দু’দলই গোলের বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *